বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
সিডনি, বার্মিংহাম কিংবা ডারবান দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের চির দুঃখের নাম। এ তিন শহরে তিনটি ট্র্যাজেডির শিকার প্রোটিয়ারা। তিনবারই তারা ছিল শিরোপার ফেভারিট। কিন্তু কখনো বৃষ্টিতে ভেসে গিয়ে কিংবা কখনো হিসাবে ভুল করে তাদের ফিরতে হয় খালি হাতে। আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেনসও কি হয়ে উঠবে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, এজবাস্টন কিংবা কিংসমিড? নাকি নন্দন কাননে ফুটবে প্রোটিয়া ফুল?
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর মাস খানেক আগেই ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপেও দুর্বার সেই ফর্ম ধরে রাখে তারা।
এ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় রান (৪২৮) প্রোটিয়াদেরই গড়া। প্রতিপক্ষকে তারা হারিয়েছে যথাক্রমে ২২৯, ১৯০, ১৪৯, ১৩৪, ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি (৪টি) প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি ককের। সদ্যই ডি কককে সরিয়ে শীর্ষ রান সংগ্রাহক হয়েছেন ভারতের বিরাট কোহলি। ডি কক এখন দুইয়ে। সঙ্গে তার সতীর্থ ফন ডার ডুসেন। বোলিংয়ে প্রোটিয়াদের টানছেন ২৩ বছরের তরুণ জেরাল্ড কোয়েৎজি (১৮ উইকেট), আর মার্কো ইয়ানসেন (১৭ উইকেট)। স্পিনার কেশব মহারাজ ১৪ উইকেট ও পেসার কাগিসো রাবাদা ১২ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের সেমিফাইনালে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এ প্রোটিয়াদের কি থামাতে পারবে অজিরা? বর্তমান ফর্মের বিচারে এগিয়ে থাকবে প্রোটিয়ারাই। যদিও পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা ক্রমেই স্বরূপে ফিরছে। ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ কিংবা ট্রাভিস হেড নিজেদের সেরা দিনে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন প্রায় একাই। আবার বল হাতে প্রোটিয়াদের ভোগান্তির কারণ হতে পারেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা, যিনি ২২ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে। অজি গতি বোলার জস হ্যাজেলউড (১২ উইকেট), মিচেল স্টার্ক (১০ উইকেট) ও প্যাট কামিন্সের (১০ উইকেট) কেউই এবার কর্তৃত্ব করতে না পারলেও তারা সবাই বড় মঞ্চের পরীক্ষিত সেনানী।
কিন্তু প্রোটিয়াদের প্রতিপক্ষ শুধুই অস্ট্রেলিয়া নয়। তৃতীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে সবসময়ই সামনে আসে বৃষ্টি, আর চাপে ভেঙে পড়ার ইতিহাস তো তাদের পুরনো। ১৯৯২ সালের সেমিফাইনালে ও ২০০৩ আসরে গ্রুপ পর্বে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভুল হিসাবের খড়্গে পড়ে বিদায় ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকার। ১৯৯৯ আসরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে শেষ চার বলে এক রান লাগত দক্ষিণ আফ্রিকার। স্ট্রাইকিং প্রান্তে টুর্নামেন্টের অজেয় খেলোয়াড় ল্যান্স ক্লুজনার। ১ মিনিট পরই সব এলোমেলো। অ্যালান ডোনাল্ড রানআউটের শিকার হলে ম্যাচটা ‘টাই’ হয়ে যায়। গ্রুপ পর্বের জয়ের সুবাদে ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া!
বৃষ্টির সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকান ট্র্যাজেডির বড় যোগ। ১৯৯২ ও ২০০৩ বিশ্বকাপের মতো এবারো কি বৃষ্টিতে ভেসে যাবে প্রোটিয়াদের স্বপ্ন? কলকাতায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগামীকাল রিজার্ভ ডের ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও আগামীকালও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ।
প্লেয়িং কন্ডিশন কী বলছে? পুরো ৫০ ওভারের খেলা সম্ভব না হলে কার্টেল ওভারে (ন্যূনতম ২০ ওভার) চেষ্টা করবেন কর্মকর্তারা। দুদিনেও যদি ম্যাচ শেষ করা না যায়, তবে রাউন্ড রবিন লিগে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকার সুবাদে প্রোটিয়ারা পাবে ফাইনালের টিকিট। ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদে শিরোপার নিষ্পত্তি হবে।
ফাইনালে ওঠা নিয়ে খুব চিন্তিত নন প্রোটিয়া ব্যাটার ডুসেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ৮-১২ সপ্তাহে আমাদের ড্রেসিংরুমের যে মধুর আবহ ছিল, সেটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা জিতি কিংবা হারি, যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা ভালো কিছু স্মৃতি নিয়ে ফিরব।’